সোমবার ২২ এপ্রিল ২০১৯   |  ৯ বৈশাখ ১৪২৬   |   ১৫ সাবান, ১৪৪০
Untitled Document

সাংবাদিক উৎপল দাসের মুক্তি

জঙ্গলের টিন-শেড ঘরে ২ মাস ১০ দিন আটকে রাখা হয়

প্রকাশঃ বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭    ১৬:০২
অনলাইন ডেস্ক নিউজ

দুই মাস ১০ দিন একটি জঙ্গলের মধ্যে টিন-শেড ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল সাংবাদিক উৎপল দাসকে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকায় তাকে ফেলে রেখে যাওয়া হয় বলে তিনি জানান।

খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে তাকে উদ্ধার করে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ। রাতেই নরসিংদী থেকে বাবা-মা এসে উৎপলকে বাড়ি নিয়ে যান। নরসিংদীর রায়পুরা থানা সংলগ্ন একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন তার মা-বাবা।

নিখোঁজের বিষয়ে বুধবার সকালে টেলিফোনে উৎপল দাস সমকালকে বলেন, 'গত ১০ অক্টোবর দুপুরে ধানমণ্ডির স্টার কাবাব রেস্তোরায় খাওয়া-দাওয়ার পর সেখান থেকে বের হলে একটি গাড়িতে করে আমাকে তুলে নিয়ে যায় একদল লোক।  পেছন থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার চোখ বাঁধা ছিল। কাউকে দেখতে পাইনি। এতদিন কোন এলাকায় ছিলাম সেটা নিজেও জানি না। একটা জঙ্গলের মধ্যে টিন-শেড ঘরে আমাকে আটকে রাখে। সেখানে কোনও খাট বা চৌকি ছিল না। ফলে মেঝেতেই ঘুমাতেই হতো। ওই ঘরে এটাচ বাথরুম ছিল। সেখানে গোসল করতাম। আমার ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। তাই দরজার নিচ দিয়ে খাবার দিয়ে যেতো। তিন বেলা নরমাল খাবার দেওয়া হতো।'

উৎপল দাশ বলেন, 'আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর প্রথম দিকে কিছু চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে। প্রথমদিকে মাঝে মাঝে বলে এত টাকা আছে তোর আছে তুই টাকা দে। টাকা দিলে তোকে ছেড়ে দেব। তারপর যেহেতু আমি টাকা দিতে পারিনাই শেষদিকে তারা এসে আমাকে বলেছে তুই যেহেতু টাকা দিতে পারিসনাই মেরে ফেলবো। ওরা আমার মোবাইল নিয়ে যায়। আজ আমাকে চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে করে নামিয়ে দিয়ে যায়। চোখ খুলে দেওয়ার পর আমি বুঝতে পারি এটা ভুলতা, নারায়ণগঞ্জ। আমাকে তারা বলে, তোর ফোনে চার্জ আছে তুই বাড়ি চলে যা, পেছনে ফিরে তাকাবি না। আমি আর পেছনে ফিরে তাকাইনি। আর বললো যে, ৫০ গজ পেছনে একটা পেট্রোল পাম্প আছে, আমি সেই পেট্রোল পাম্পে চলে যাই এবং গিয়ে বাড়িতে ফোন করি। নামিয়ে দিয়ে যাওয়ার আগে আমাকে চোঁখ বাধা অবস্থায় তিন-চার ঘণ্টা গাড়িতে করে ঘোরানো হয়।

তবে এরা কারা বা কেন তাকে আটকে রেখেছিল সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি তিনি। অপহরণকারী কাউকে চিনতে পেরেছেন কি না জানতে চাইলে উৎপল দাস বলেন, কাউকেই চেনেন না তিনি।

রূপগঞ্জের ভুলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ শহীদুল আলম বলেন, কে বা কারা মাইক্রোবাস থেকে আধুরিয়ায় একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে নামিয়ে দিয়ে গেছে। পরে ফিলিং স্টেশনের লোকজন ভুলতা ফাঁড়িতে ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাকে নিয়ে আসে।

উৎপল দাস বলেন, ‘বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার কথা ছিল এখান থেকে। তবে গাড়ির টিকিট পাইনি। এরপর রূপগঞ্জ পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল ইসলাম গিয়ে আমাকে সিএনজি স্টেশন থেকে নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে রাতেই আমার মা-বাবা গিয়ে আমাকে বাড়ি নিয়ে আসেন।'

গত ১০ অক্টোবর রাজধানী থেকে নিখোঁজ হন পূর্বপশ্চিম ডট নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল। গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর মতিঝিল থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি করেন উৎপলের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস এবং পূর্বপশ্চিমের সম্পাদক খুজিস্তা নূরে নাহরীন। পুলিশের তথ্যনুযায়ী, তার সর্বশেষ অবস্থান ছিল ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর এলাকায়। ১০ অক্টোবর বেলা একটা ৪৭ মিনিট থেকে তার ফোন বন্ধ থাকে। উৎপল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই সাংবাদিকরা উৎপলের সন্ধানের দাবিতে রাজপথে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করেন।

আর্কাইভ
April 2019
SunMonTueWedThuFriSat
1

2

3

4

5

6

7

8

9

10

11

12

13

14

15

16

17

18

19

20

21

22

23

24

25

26

27

28

29

30

প্রকাশক

বিপ্লব চন্দ্র চক্রবর্তী

ভারপ্রাপ্ত প্রকাশক

মাকসুদুল বারী স্বপন

আমাদের সাথে থাকুন
© Copyright 2017. GEE BD. Designed and Developed by GEE IT
সদ্য সংবাদ